অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম শীর্ষ ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং টেকসই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগের গতি ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি সর্বস্তরের বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াগত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, নীতিগত স্থিতিশীলতা আনয়ন এবং বাণিজ্যিক পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও সহজীকরণ করা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে কেবল সাময়িক ব্যবসায়িক সম্পর্ক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও সুসংহত অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এতে করে দেশে উন্নত প্রযুক্তির স্থানান্তর ঘটবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পরিকাঠামো খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রস্তুতকারক শিল্পে বৈদেশিক পুঁজি প্রবাহ বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মূল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনস্থলে আয়োজিত ‘ইনভেস্টরস এক্সপো’ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দেশি ও বিদেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ মতবিনিময় করেন এবং তাদের উদ্ভাবনী সেবা ও পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের সুবিধা-অসুবিধা ও সম্ভাব্য প্রত্যাশার কথা গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধি, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, অর্থনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) কোনো বিকল্প নেই। সঠিক নীতি বাস্তবায়ন ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ হাবে পরিণত হতে পারে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


