জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সশস্র গোষ্ঠী হুতিদের নতুন করে নৌ অবরোধ ঘোষণার কঠোর নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ, আঞ্চলিক শান্তি ও সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উসকানিমূলক তৎপরতা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান অস্থিতিশীলতাকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের মৌলিক অধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ঢাকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন (আনক্লস) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও বৈধ চলাচল সুনিশ্চিত করা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। বিশেষ করে লোহিত সাগরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক পথকে অবরুদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাতের সামিল।
বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য লোহিত সাগর করিডোরের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম মূল জীবনরেখা। এই মহাসমুদ্র পথে যেকোনো ধরনের সামরিক ও অসামরিক বাধা সৃষ্টি করা হলে তা সমগ্র বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ধাক্কা সৃষ্টি করবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজ, নাবিক এবং বাণিজ্যিক কর্মীদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য বৈশ্বিক অংশীদারদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ বলেছে, সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন যেকোনো একপাক্ষিক ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ থেকে হুতিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিরত থাকতে হবে। পরিস্থিতির আরও যেন অবনতি না ঘটে, সেজন্য অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করার ওপর তাগিদ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তিতে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, জোরপূর্বক বা সংঘাতের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পারিক সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই জটিল অস্থিতিশীলতার গ্রহণযোগ্য ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব।


