রাজনৈতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভুলত্রুটির উর্ধ্বে কোনো সংগঠন নয় উল্লেখ করে দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো অন্যায় বা অপরাধ সংঘটিত হলে তা সংশোধনে জামায়াত সদাপ্রস্তুত। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে দলের অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের আত্মশুদ্ধি এবং নেতাকর্মীদের আচরণগত মানদণ্ড বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো ফেরেশতাদের দল নয়; এটি সাধারণ মানুষেরই একটি দল। ফলে কাজ করতে গিয়ে সাংগঠনিক বা ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি কিংবা বিচ্যুতি ঘটে যাওয়া অस्वाভাবিক নয়। তবে অন্যায় এবং জামায়াতে ইসলামী কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ভুল বা বিচ্যুতি নজরে আসলে তা ধামাচাপা না দিয়ে সংশোধনের মানসিকতা রাখাই আদর্শিক রাজনীতির মূল ভিত্তি।
দেশ ও জাতির মঙ্গলকামী সকল মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত প্রধান বলেন, দল বা নেতাকর্মীদের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি কিংবা গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে তা যেন প্রকাশ্যে বা গোপনে ধরিয়ে দেওয়া হয়। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ যদি দলের কোনো ভুল বা অপরাধমূলক কাজ চিহ্নিত করে দেয়, তবে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
সংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণের তাগিদ দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান এক সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বজায় রাখা রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যার পোশাকে পরিচ্ছন্নতা বেশি, তাকে ধুলোবালি বা ময়লা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ততটাই সতর্ক থাকতে হয়। তাই নৈতিক মানদণ্ড ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিটি কর্মীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
দলের ভেতরে শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান পরিষ্কার করে বিরোধীদলীয় নেতা জানান, নৈতিকতার স্খলন কিংবা অন্যায়ের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। সহনীয় মাত্রার কোনো ভুল হলে বা সাধারণ কোনো সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং তাকে পুনঃমূল্যায়ন করে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে নৈতিক অবক্ষয় বা গুরুতর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোরতম সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
উক্ত সতর্কবার্তা দলের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব—সকলের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য উল্লেখ করে জামায়াত আমির সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সচেতন, সতর্ক ও অনুশাসিত থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।


