গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জাতীয় ঐক্য ও সতর্কতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নানা প্রান্তে যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র অনেক ক্ষেত্রেই হুমকির মুখে পড়েছে। তবে বাংলাদেশ সব সময় প্রথাগত ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখে। সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং জনগণের কাছেই এর যাবতীয় জবাবদিহিতা।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের অমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সরকারের উন্নয়ন নীতি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের ঘোষিত রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের আদর্শকে ভিত্তি করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দল ও সরকারের পক্ষ থেকে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতবদ্ধ। কোনো ধরনের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা এই উন্নয়ন যাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না।

বৈদেশিক নীতির ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট চ্যালেঞ্জিং হলেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ সমুন্নত রেখে বিশ্বের সব বন্ধুভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

উক্ত সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ