সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় : লক্ষ্মীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী

সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় : লক্ষ্মীপুরে পানিসম্পদ মন্ত্রী

 সারাদেশ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সরকারের জবাবদিহিতা, উন্নয়ন কাজের বাস্তবায়ন এবং জনগণের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। নব্য গঠিত সরকারের মেয়াদের শুরুতেই গৃহীত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির সাথে সাথে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।

শুক্রবার বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার লামচরি জামে মসজিদ কমিটি কর্তৃক আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সময়ে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি না করে বরং গৃহীত উন্নয়নমূলক কাজগুলোর সূচনায় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছেন। তবে সময়ের সাথে সাথে, অর্থাৎ এক থেকে দেড় বছর অতিক্রান্ত হলে সাধারণ জনগণ সরকারের কাজের অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতি পালনের বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করবে। সেই বাস্তবতা সামনে রেখে বর্তমান সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করছে।

উন্নয়ন পরিকল্পনার দৃশ্যমান বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো অঞ্চলের জন্যই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা স্বপ্ন থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় বাধা আটকে আছে তা চিহ্নিত করে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর করা এবং পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মাথায় লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষায় কাজ শুরু করা হয়েছে। এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের সর্বোচ্চ পদের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কাজগুলো আরও বেগবান করা সম্ভব হবে। সরকার কেবল পরিকল্পনা গ্রহণের মধ্যে সীমিত না থেকে কাজের অগ্রগতি যাতে সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান হয়, সে লক্ষ্যেই বর্তমানে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সংবর্ধনা সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান ও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইউছুফ এবং কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলম।

এছাড়া অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হারুন আল মাদানি এবং রামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সভায় বক্তারা এলাকার সার্বিক অবকাঠামো ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ