জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা একটি আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সদৃশ বস্তু সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। তবে পুলিশি নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রমের সময় বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সৃষ্ট বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত এবং তার বাসা মতিঝিলের আরামবাগ এলাকায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা একটি পরিত্যক্ত ছাতা দেখতে পান। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ছাতাটি পরীক্ষা করে তার ভেতরে আইইডি সদৃশ একটি বস্তু পরিলক্ষিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পুরো এলাকা কর্ডন করে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং বিষয়টি ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে অবহিত করে।
সংবাদ পেয়ে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। রাত ৮টার দিকে স্টেশনের নিচের নির্ধারিত এলাকায় বস্তুটিকে সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তবে নিষ্ক্রিয়করণের আকস্মিক বিস্ফোরণে ছিটকে আসা স্প্লিন্টারের আঘাতে পথচারী মিরাজ আহমেদ আহত হন। ঘটনার সময় তিনি পায়ে হেঁটে মতিঝিল এলাকা দিয়ে আরামবাগে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। বোমার একটি স্প্লিন্টার তার বাম চোখের নিচে এসে লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত ওই পথচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বর্তমানে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
এদিকে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইইডি সদৃশ বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করায় বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। জনবহুল এই মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু কে বা কারা রেখে গেছে, তার প্রকৃত উৎস এবং নেপথ্য কারণ উদঘাটনে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ ইউনিটগুলো সমন্বিত তদন্ত শুরু করেছে। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।


