জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় গ্যাস গ্রিডে কারিগরি ত্রুটিজনিত সমস্যা সমাধানে সার্বিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাময়িক এই সংকটের সমাধান হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, আবাসিক খাত এবং সিএনজি স্টেশনে পূর্বের ন্যায় গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরে আসবে।
যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
দেশের বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা ‘ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট’ (এফএসআরইউ)-এর মাধ্যমে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হয়। এই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাসাবাড়ির নিত্যদিনের গ্যাস সরবরাহ পরিচালিত হয়।
বর্তমানে একটি এফএসআরইউতে কারিগরি জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রক্রিয়াকরণ ও সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটটি দ্রুত মেরামতের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা এবং একটি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কারিগরি কাজ পরিচালনা করছে। একই সাথে পুরো প্রক্রিয়াটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রতিনিয়ত নিবিড় তদারকিতে রাখা হয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য তথ্য ও অপপ্রচার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নৈতিক শিক্ষার প্রসারের ওপর জোর দেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাকে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও বৈষয়িক সমৃদ্ধি অর্জন হলেও সামাজিক নীতি-নৈতিকতার জায়গায় এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বস্তরে এই নৈতিক ভিত্তির পুনর্চর্চা বাড়াতে শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। সভায় অন্যান্য বক্তারা অপতথ্য ও গুজব রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিং জোরদারের বিষয়ে আলোকপাত করেন।


