পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল বিএনপি

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা জানান।

রাষ্ট্রপতি পদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সম্পর্কিত আলোচনার বিষয়ে কথা বলতে গিয়া রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি মূলত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বিষয়ে যেসব আইনি ও বিচারিক দাবি উত্থাপিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যথাসময়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবসহ প্রশাসনের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নবাগত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে এই নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন রিজভী। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অতীত রাজনৈতিক আদর্শ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পটভূমি এবং ত্যাগের বিষয়টি মূল্যায়নের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে ন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পেশাদারিত্ব, প্রশাসনিক সততা ও নিজস্ব আদর্শের প্রতি অটল থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়েও জাতীয় নীতি তুলে ধরা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান ও দেশের বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে গত চার মাসে সমাজকল্যাণমুখী যেসব অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তার বাস্তবায়ন জোরদার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে তরুণদের বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত বহুমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়।

জাতীয় জীবনের বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তরকালে রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমে সব যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। জাতীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, প্রশাসনিক ভারসাম্য বিধান এবং প্রস্তাবিত বড় অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনাসমূহ সফলভাবে বাস্তবায়নই বর্তমান নীতিনির্ধারণী কাঠামোর মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা কাটাতে দ্রুতই নীতিনির্ধারণী সভার মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন সংক্রান্ত কৌশল চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ