অপরাধ ডেস্ক
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় তিন বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. হাসান মিয়া (২৯) নামের এক পল্লিচিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার স্থান, এজাহার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, শনিবার দুপুরে শিশুটি নিজ বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় প্রতিবেশী পল্লিচিকিৎসক হাসান মিয়া শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক নির্যাতন করেন। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও কান্নাকাটি দেখে পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পারেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানার পর শনিবার রাতে শিশুটির মা সখীপুর থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত এজাহার জমা দেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিবন্ধিত করে। মামলার একমাত্র আসামি হিসেবে হাসান মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এজাহার পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও জানান, শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্র প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানকে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রাতেই ভুক্তভোগীকে জেলা সদরের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। ওসিসিতে ভুক্তভোগী শিশুদের একই ছাদের নিচে চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা এবং মানসিক কাউন্সিলিং সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। ওসিসির সমন্বয়ক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটির ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে, যা আইনি বিচারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
গ্রামীণ চিকিৎসাসেবার সাথে যুক্ত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অপরাধের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। চিকিৎসকের পেশাগত অবস্থানকে ব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা। তারা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করার দুঃসাহস না দেখায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় ঘটনার পরপরই আলামত সংরক্ষণ ও সঠিক ফরেনসিক প্রতিবেদন দাখিল করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে, যেন ভুক্তভোগী শিশুটি এবং তার পরিবার দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট বিচার লাভ করতে পারে।


