ক্রীড়া ও তরুণ উন্নয়ন ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে অংশ নেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নিশ্চিত কোনো সময়সীমা বা নির্দিষ্ট তারিখ বেঁধে দেওয়া সম্ভব না হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ১০, ২০ বছর বা কোনো এক সময়ে বাংলাদেশের পক্ষে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
রবিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিনা খরচে সরকারি উদ্যোগে সাধারণ মানুষের জন্য সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সম্প্রচারের ব্যবস্থা করায় দেশবাসী ও ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ কবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে—এমন প্রশ্নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফুটবলের প্রতি দেশের মানুষের গভীর আবেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও ফুটবলপ্রেমীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ আন্তর্জাতিক দলগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রত্যেকের ভেতরেই নিজের দেশকে বিশ্বমঞ্চে দেখার একটি তীব্র আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তিনি নিজেও একজন নাগরিক ও ক্রীড়াবিদ হিসেবে সেই স্বপ্নের অংশীদার।
নিজের অতীত খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা স্মৃতিচারণ করে জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার জানান, মাঠের প্রতিনিধি হিসেবে অতীতে দেশের ক্রীড়া খাতের নানা সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নিয়ে তিনি সোচ্চার ছিলেন। বর্তমান দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অবকাঠামো পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খেলার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার ‘জিরো পয়েন্ট’ বা শূন্য থেকে কাজ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ ও আকাক্সক্ষাকে ভিত্তি ধরে ক্রীড়াঙ্গন পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কাঠামোগত এই পরিবর্তনের সূচনা সফলভাবে সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের দল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করবে।
বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান র্যাংকিং ও বৈশ্বিক কাঠামোর প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যকে ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত সদিচ্ছা বা স্বপ্ন নয়, আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে হলে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ লীগ আয়োজন, একাডেমি তৈরি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিলে দেশের ফুটবল এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে পারে।


