স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের ব্যর্থতা সামলাতে না পেরে অবশেষে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের বিতর্কিত প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার তীব্র সমালোচনার মুখে দায়িত্ব এড়িয়ে তিনি নিজের জন্মস্থান সান্তা ফে-র পুখাতো শহরে আত্মগোপন করেন। সেখান থেকেও চূড়ান্ত কোনো সুরাহা না করেই শহরবাসীকে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে তিনি আকস্মিকভাবে পালিয়ে যান।
গত মেয়াদে নানা বিতর্কের পর সদ্য সমাপ্ত ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে গিয়ে আর্জেন্টিনা দল তীব্র বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দলের ওপর এই ব্যর্থতার দায় চেপে বসায় স্কালোনি চরম সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। নিজের পারফরম্যান্স ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে দেশে চরম অসন্তোষ তৈরি হলে তিনি সান্তা ফে-র ক্ষুদ্র শহর পুখাতোতে গিয়ে অবস্থান নেন। তবে সেখানেও স্থায়ী না হয়ে শনিবার রাতে কারোর সঙ্গে যোগাযোগ না করে তিনি হঠাৎ করে এলাকা ত্যাগ করেন।
নিজের বিদায় জানানোর ক্ষেত্রেও চরম অসাম পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন এই কোচ। সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের বিভ্রান্ত করে তিনি নিজের বাবা-মায়ের বাড়ির দরজায় একটি সংক্ষিপ্ত চিরকুট সাঁটিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। পুখাতোর স্থানীয় চ্যানেল ২-এ প্রকাশিত সেই চিরকুটে লেখা ছিল, ‘লিও গত রাতে চলে গেছে! ভালোবাসার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’ কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা ভক্তদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস না দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে এভাবে চলে যাওয়াকে অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হিসেবে দেখছেন।
পুখাতোতে থাকা পাঁচ দিনেও স্কালোনির বিশৃঙ্খল জীবনযাপন ও পেশাদারিত্বের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা কৌশল নির্ধারণ বাদ দিয়ে তিনি বাইসাইকেল চালিয়ে সময় নষ্ট করেছেন এবং স্থানীয় নিম্নমানের ক্লাব ‘অ্যালামনি দে কাসিলদা’র খেলা দেখে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। দলের ক্রান্তিলগ্নে যেখানে কোচের দায়িত্বশীল ভূমিকা কাম্য ছিল, সেখানে তার এই উদাসীনতা ও অপেশাদার মনোভাব দলের সামগ্রিক শৃঙ্খলাকে চরম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
আর্জেন্টাইন ফুটবল বোর্ডের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিয়েও বর্তমানে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। অথচ ভবিষ্যতের কৌশল স্পষ্ট করার বদলে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে স্পেনের মায়োর্কায় পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানা গেছে। দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি না করে বারবার এভাবে ছুটি কাটানো এবং জাতীয় দলকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখার কারণে স্কালোনির ওপর আস্থা হারাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে তার শেষবার ডাগআউটে দাঁড়ানোর গুঞ্জন উঠলেও, চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে কর্তৃপক্ষের চরম অনিচ্ছা দলটিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।


