অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সারাদেশে অভিযানে গ্রেপ্তার লাখের বেশি, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও মাদক

অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সারাদেশে অভিযানে গ্রেপ্তার লাখের বেশি, উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও মাদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে সরকার ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় দেশব্যাপী সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে জননিরাপত্তা সুসংহত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে পুলিশ, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে সারাদেশে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ কার্যক্রমে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং নিয়মিত মামলায় আটকের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৮১৭। অভিযান চলাকালে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি বিস্ফোরক, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে ৭৬টি পিস্তল, ৫০টি বন্দুক, ৩৩টি এলজি, ৩০টি শুটার গান, ১৮টি রিভলভার এবং ২টি সাবমেশিনগানসহ অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্র রয়েছে।

একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। সারাদেশ থেকে প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা, ৮ হাজার২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল এবং প্রচুর পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় মাদক সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) জানান, দেশের প্রতিটি স্থানে জননিরাপত্তা সুসংহত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কৌশলগত মহাসড়কগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ ক্যামেরা ও সিসিটিভি নজরদারি চালু করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই চালিত ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই আধুনিক ব্যবস্থা সড়কে ডাকাতি, মাদক পাচারসহ যেকোনো অপরাধ দমন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি আনবে। এই প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের বিদ্যমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশে শান্তি, আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চাঁদাবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী ও মাদকচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে এই বিশেষ কৌশলগত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জামিনে মুক্ত অপরাধীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধিসহ হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ কঠোর হস্তে দমনের বার্তা দেন তিনি।

রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যার অংশ হিসেবে দৈনিক গড়ে প্রায় ৪০০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হচ্ছে। পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের বিভাগীয় পর্যালোচনা সভাগুলোতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নীতি বজায় রাখা হচ্ছে। একই সাথে দায়িত্বে অসাধারণ দক্ষতার জন্য পুরস্কৃত করার পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা অবহেলা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ