সাবেক রাষ্ট্রপতির আগের অপরাধের বিচারে আইনি বাধা নেই: তথ্য উপদেষ্টা

সাবেক রাষ্ট্রপতির আগের অপরাধের বিচারে আইনি বাধা নেই: তথ্য উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পূর্বে সংগঠিত যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আইনি বাধা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা বিচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র এখতিয়ার আদালতের। বিচারিক বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা বা হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সুশাসনের নীতি নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বিচার বিভাগের স্বাধীন গতিধারা নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা হয়।

তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা জোর দিয়ে বলেন, বিচার পাওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের একটি মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। বর্তমান সরকার জনগণের এই সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল এবং তা সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান—এই নীতির ভিত্তিতেই আদালত পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অতীতে যদি কোনো অপরাধের অভিযোগ থেকে থাকে, তবে স্বাধীন বিচার বিভাগ তার আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো আইনি জটিলতা বা সরকারি বিধিনিষেধ অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে না।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শতভাগ নিশ্চিত করা। বিচারাধীন বা সম্ভাব্য বিচারিক বিষয়ের ওপর সরকারের কোনো বক্তব্য দেওয়া সমচীন নয়। আদালত নিজস্ব প্রজ্ঞা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রচলিত আইনের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সরকার কেবল আদালতের নির্দেশনা ও রায়ের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবিধানিক পদের ব্যক্তি বা সাবেক কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের অপকর্মের বিচারে সাংবিধানিক ও আইনি সুযোগ-সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রায়শই বিভিন্ন বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই স্পষ্ট বার্তা বিচার বিভাগের প্রতি জন আস্থা পুনর্গঠনে এবং আইনের শাসন পুনপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রাষ্ট্রীয় যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিবর্গের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে আদালতের এই স্বাধীন অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোক আরো শক্তিশালী করবে।

তথ্য উপদেষ্টা তার বক্তব্যের শেষে জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি অপরাধেরই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতবদ্ধ এবং আদালত যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবে, আইন অনুযায়ী তা প্রতিফলিত হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ