আইন ও আদালত ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে তিনি জানিয়েছেন, তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ কোনো কল্পনা নয়, বরং এটি একটি বাস্তব ঘটনা। এই বন্দিশালা ও গুমের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সদ্য সাবেক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। এর দায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
শনিবার রাজধানীর উত্তরাস্থিত র্যাব-১ কার্যালয়ের টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার আনুমানিক আড়াই শতাধিক ব্যক্তির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়া এসব ব্যক্তিদের প্রকৃত অবস্থা এবং তারা বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা ইলিয়াস আলী এবং বিশিষ্ট সংগঠক সাজেদুল ইসলাম সুমন অন্যতম বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিদর্শনকালে চিফ প্রসিকিউটরের সাথে উপস্থিত ছিলেন পূর্বে গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা। তাদের মধ্যে অন্যতম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশিম (আরমান)। দীর্ঘ সময় এই বন্দিশালায় থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি যেসব কক্ষের কথা বর্ণনা করেছিলেন, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রসিকিউশন দল সরেজমিনে সেসব কক্ষ প্রত্যক্ষ ও যাচাই-বাছাই করেন।
সরেজমিন তদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রসিকিউটর আরও জানান, বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও এই র্যাব-১-এর গোপন বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পরবর্তীতে তাকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে ভারতে ফেলে আসা হয় বলে প্রসিকিউশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মো. আমিনুল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল এবং পরবর্তীতে অপরাধের ধামাচাপা দিতে বন্দিশালার আলামত বিনষ্ট কিংবা দেয়াল তুলে গোপন কক্ষগুলো লুকানোর চেষ্টা করেছে, তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, বিগত শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে দেশের অন্যান্য স্থানে থাকা অনুরূপ গোপন প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং বন্দিশালাগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে এমন পরিদর্শন ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রাখা হবে।


