জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত অর্জনের ফল: আতিকুর রহমান রুমন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত অর্জনের ফল: আতিকুর রহমান রুমন

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা একক দলের একক কৃতিত্ব নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকামী সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফসল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এ ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের অবদান এককভাবে দাবি করে অন্য অংশীদারদের অবমূল্যায়ন করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের হলো শেষ’ শিরোনামে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বক্তব্যে আতিকুর রহমান রুমন দেশের রাজনৈতিক সংকটকাল ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ লড়াইয়ের নানা প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন এবং নানা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। একইসঙ্গে দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্মম রাজনৈতিক নির্যাতনের সম্মুখীন হয়ে প্রায় দেড় দশক নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এত ত্যাগ স্বীকারের পরও তারা নিজেদের অবদানকে একক কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেননি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন বা অর্জনে নিজের অবদান অতিরিক্ত মাত্রায় জাহির করার মধ্যে কোনো প্রকৃত গৌরব নেই। ইতিহাস সর্বদা সত্যকে বস্তুনিষ্ঠভাবে মূল্যায়ন করে। তিনি হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করে বলেন, যারা গণআন্দোলনের এই ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে অস্বীকার করে একক কৃতিত্বের দাবিদার হতে চাইছেন, ভবিষ্যতে জনগণ তাদের সঠিক জবাব দেবে এবং ইতিহাসও তাদের সেভাবেই মূল্যায়ন করবে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করে আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিক সমাজের বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে দেশের অনেক সাংবাদিক জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন। আন্দোলনের কঠিন পরিস্থিতিতে তারা কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালনই করেননি, বরং গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও মানবিক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করেছেন।

সাংবাদিকদের এই সাহসিকতা ও সহযোগিতার স্মরণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, সংকটময় মুহূর্তে অনেক গণমাধ্যমকর্মী নিজেদের যানবাহন ব্যবহার করে নেতাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। দেশের যেকোনো কঠিন সংকট ও পরিবর্তনের মুহূর্তে সংবাদকর্মীদের এ ধরনের দায়িত্বশীল ও সাহসী অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ছাত্র-জনতার অসামান্য ত্যাগ এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। পরে অতিথিরা গণঅভ্যুত্থানকালীন সময়ের দুর্লভ ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোকচিত্রসমূহ ঘুরে দেখেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ