স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩৭১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক সার্বিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ঢাকার ভেতরের ও বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩৫ জন। বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম, সেখানে ভর্তি হয়েছেন ৯১ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ৬৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৮১ জনে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ হাজার ৪৫৮ জন। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য ডেঙ্গু এক নিয়মিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্তের হার জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়। আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরের এ সময় পর্যন্ত আক্রান্তের ধারা অব্যাহত থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সতর্কবার্তা বহন করে।
তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। ওই বছর মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন মোট ৪১৩ জন। বিগত বছরের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে চলতি মৌসুমেও রোগ বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বাসাবাড়ি ও আশপাশের আঙিনায় পানি জমে থাকা বন্ধ না করলে এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসন জোরালো ভূমিকা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সাধারণ মানুষকে মশার কামড় থেকে বাঁচতে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও ডেঙ্গু পরীক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।


