মিরপুর ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার: বিস্ফোরক মেলেনি, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

মিরপুর ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার: বিস্ফোরক মেলেনি, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

জাতীয় ডেস্ক

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুই মেট্রোরেল স্টেশন মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের তলদেশে বোমাসদৃশ সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ধরনের সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তু দুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, সেগুলোতে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক উপাদান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম প্রায় ২০ মিনিট বন্ধ রাখা হলেও বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্টেশনের নিচের অংশে বোমাসদৃশ একটি সন্দেহজনক ব্যাগ থাকার খবর আসে। যাত্রী ও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনের প্রবেশ, প্রস্থান এবং ট্রেন থামার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এ সময় স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চিত হওয়ার পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত একটি ব্যাগকে কেন্দ্র করে সন্দেহ ঘনীভূত হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে তলব করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পুরো এলাকা কর্ডন বা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। ব্যাগটি এক্স-রে যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করা হলে তার ভেতরে গোল আকারের একটি কৌটাসদৃশ বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞ দল ‘ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর’ নামক বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যাগটি নিরাপদ উপায়ে নিষ্ক্রিয় করে। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ব্যাগটির ভেতরে কেবল কিছু পান এবং জর্দার একটি কৌটা ছিল। সেখানে কোনো ধরনের কসমেটিকস, বিস্ফোরক কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর উপাদান ছিল না।

একই দিনে অনূরূপ আরেকটি ঘটনায় রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের অংশে একটি পরিত্যক্ত বস্তাকে ঘিরে বোমা আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুততম সময়ে ফার্মগেটে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর বিশেষজ্ঞ সদস্যরা হ্যান্ড এন্ট্রিসহ ম্যানুয়াল ও প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে বস্তাটি পরীক্ষা করেন। পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উক্ত বস্তার ভেতরেও কোনো বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ ছিল না।

দুটি ঘটনার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। ডিএমপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, জনমনে ভয়ভীতি বা আতঙ্ক ছড়ানোর কোনো কারণ নেই। যে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। নগরবাসীকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে গণপরিবহন এবং পাবলিক স্পেসগুলোতে নিজস্ব মালামাল সতর্কতার সাথে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।

মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মেট্রোরেল সেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬-এর সকল স্টেশনে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী ওঠানামা স্বাভাবিক সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। রাজধানীর এই আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজস্ব আনসার বাহিনীর তদারকি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ