উন্নত বাংলাদেশ গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

উন্নত বাংলাদেশ গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

উন্নত বাংলাদেশ গঠন ও দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কেবল গতানুগতিক শিক্ষার ধারণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশে আরও চারটি নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আজ ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ সভা ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষা মন্ত্রী তার বক্তব্যে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জুলাই মাস বাংলাদেশের ইতিহাস ও মানুষের স্মৃতিপট থেকে কখনো মুছে যাবে না। নবপ্রজন্মের রক্ত ও শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা অর্জন করেছে। এই অর্জনকে ধারণ করে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশ্বজুড়ে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী আয়। কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি আন্তর্জাতিক মানের মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ কুমিল্লা সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শহীদ হামিদুর রহমান মজুমদার (সাদমান) ও কিশোরগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শহীদ সামিদ হোসেনের পরিবারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি, আন্দোলনকালে আহত ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত আসন ১৬-এর সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

এর আগে, সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেন এটি আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবান সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিকে পরিণত করার পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবকাঠামো শক্তিশালী করতে এবং বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। সরকার ঘোষিত নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন সেই পথকে আরও সুগম করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ