অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় দিনের আলোয় এক নারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সর্বস্ব লুটের ঘটনা ঘটেছে। এতে গভীর চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়। নিহত নারীর নাম সারা রোকসানা পিনু। বৃহস্পতিবার বিকেলে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকার নিজ বাসভবনে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। দুর্বৃত্তরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘটনা সংঘটনের পর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে সটকে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর কন্যা। ঘটনার সময় তিনি বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন। প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর স্বামী কর্মস্থলে ছিলেন এবং তাঁদের ছোট মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সাধারণত স্কুল ছুটির সময় হলে সারা রোকসানা নিজেই মেয়েকে আনতে যেতেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও তিনি না পৌঁছালে শিশুটি একা বাসায় ফিরে আসে।
বাসায় ফিরে থমথমে ও এলোমেলো পরিবেশ দেখতে পেয়ে শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পুনরায় স্কুলে ফিরে যায় এবং শ্রেণির শিক্ষককে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিহতের স্বামীকে ফোনে যোগাযোগ করে ঘটনাটি অবহিত করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা বাসায় এসে সারা রোকসানার নিথর দেহ দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, অপরাধীরা খুব সতর্কতার সঙ্গে বাসাটির নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে গ্রিল কেটে ঘরে ঢোকে। তারা মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে ওই নারীকে হত্যা করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার পর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রাহক দল জানায়, ঘরের ভেতরে জিনিসপত্র চরম এলোমেলো অবস্থায় ছিল এবং আসবাবপত্রের ড্রয়ারসহ নানা স্থান তছনছ করা হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসায় গচ্ছিত থাকা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা খোয়া গেছে। নিহতের স্বজনদের ধারণা, লুটপাটের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হতে পারে।
দক্ষিণখান থানা পুলিশ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের গলায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানা গেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি ইতিমধ্যে একাধিক টিম গঠন করে ছায়া তদন্ত শুরু করেছে এবং স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে।
রাজধানীর আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় সংঘটিত এ ধরনের দুর্ধর্ষ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় অধিবাসীরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন, ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদঘাটন এবং লুটের মালামাল পুনরুদ্ধারে জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অতি দ্রুত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।


