থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশব্যাপী ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশব্যাপী ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব

জাতীয় ডেস্ক

দেশে থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় ডেটাবেজ বা রেজিস্ট্রি তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ব্যাধিতে আক্রান্তদের সার্বিক সহায়তায় উপজেলা ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা ২০২৬’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাবনা উঠে আসে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি (বিটিএস) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশজুড়ে থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্তদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা সহজীকরণে দ্রুত একটি কার্যকর রেজিস্ট্রি প্রস্তুত করা জরুরি। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাময় সম্ভব না হলেও সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত রক্ত সরবরাহ এবং মানবিক সহমর্মিতার মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব।

রোগটি প্রতিরোধে প্রাথমিক সনাক্তকরণ ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও জানান, গর্ভকালীন সময়ে স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে অথবা যেকোনো বয়সে রক্তের প্রাথমিক পরীক্ষাতেই থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়া সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিকল্পনাধীন এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাদের থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ, চিকিৎসা পদ্ধতি ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শনাক্তকৃত রোগীদের থ্যালাসেমিয়া মেজর, থ্যালাসেমিয়া মাইনর এবং থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট—এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হলে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। চিকিৎসকদের সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ রোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক চাপ অনেকাংশে কমাতে পারে। অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত রক্তদানে উৎসাহিত করা হয়।

বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য খাতের নীতি-নির্ধারক ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞেরা উপস্থিত ছিলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ এবং নিয়মিত রক্তদানের ধারা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ