জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন ও পুনঃদাখিল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও সহজতর করতে চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে এবং সার্বিক প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক হাবিবা আখতার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনআইডি সংশোধনের জন্য নাগরিকদের জমা দেওয়া বিভিন্ন প্রমাণক ও দলিলাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা এবং আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে এই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গঠিত কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালককে (নিবন্ধন ও প্রবাসী)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) এবং সহকারী পরিচালক (মুদ্রণ ও বিতরণ ইউনিট)। এ ছাড়া সহকারী পরিচালককে (সংশোধন ও প্রতিস্থাপন) কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে কমিটির কাজের পরিধি ও সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনআইডিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ধরন অনুযায়ী শ্রেণিকরণ করা এবং নির্দিষ্ট পরিবর্তনের জন্য ঠিক কী কী দলিল বা প্রমাণক প্রয়োজন হবে, তার একটি স্পষ্ট তালিকা প্রস্তুত করা। পাশাপাশি ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণক না থাকায় ইতিপূর্বে যেসব আবেদন বাতিল করা হয়েছিল, পরবর্তীতে সংশোধিত বা নতুন প্রমাণকসহ পুনঃদাখিল করা হলে সেসব ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে এই কমিটি।
ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে আবেদন নিষ্পত্তির সময় কারিগরি বা ডিজিটাল পোর্টালে যে সকল জটিলতা তৈরি হয়, তা সমাধানের জন্য ‘সিএমএস’ পোর্টালে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে মতামত দেবে এই কমিটি। এ ছাড়া এনআইডি লক, আনলক এবং তথ্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার (রোলব্যাক) যৌক্তিকতা ও সার্বিক মানদণ্ড নির্ধারণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করাকে এই কমিটির কাজের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত নানা কাজের জন্য বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্র একটি অন্যতম আবশ্যকীয় দলিল। ভোটার তালিকা হালনাগাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন।
বিশাল এই ভোটার গোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিয়মিত পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন, তথ্য পরিবর্তন বা নাম-ঠিকানা হালনাগাদের জন্য ইসিতে আবেদন করে থাকেন। তবে দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে নাগরিকদের প্রায়শই ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। নির্বাচন কমিশনের এই নতুন উদ্যোগ কার্যকর হলে এনআইডি সেবা গ্রহণের জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং দ্রুততম সময়ে সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


