বিনোদন ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার প্রথমবারের মতো ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল নির্মিতব্য ‘গুলশানের চামেলি’ শিরোনামের একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রূপালী পর্দায় এই অভিনেত্রীর অভিষেক হতে যাচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকায় আগমন করেন তিনি।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মহরত অনুষ্ঠানে নতুন এই চলচ্চিত্রের মূল পাত্র-পাত্রী ও কলাকুশলীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটকে ‘পাখি’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বাংলাজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন মধুমিতা। তবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র প্রযোজনার সাথে যুক্ত হয়ে নতুন একটি পরিচয়ে দর্শকহৃদয়ে পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মহরত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও এ দেশের চলচ্চিত্র প্রেমীদের আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকে সহশিল্পী, কলাকুশলী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে অভ্যর্থনা ও ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, তাতে নিজেকে ভিন্ন কোনো দেশে বলে মনে হয়নি। একটি সুসংগঠিত টিমের সাথে আন্তর্জাতিক মাত্রার কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজের সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেন মধুমিতা।
চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপি ও চরিত্র নির্বাচন সম্পর্কে আলোকপাত করে মধুমিতা বলেন, নতুন এই প্রজেক্টের কাহিনি ও বিন্যাস বেশ ভিন্নধর্মী। কলকাতার চলচ্চিত্রে বিগত দিনে এ ধরনের বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করার সুযোগ তাঁর হয়নি। গল্প ও মূল চরিত্রের গভীরতা দেখে তিনি এই চলচ্চিত্রে যুক্ত হতে উৎসাহিত হয়েছেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে শুটিং চলাকালীন আরও কাছ থেকে জানার তীব্র আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘বোঝে না সে বোঝে না’ নাটকের বহুল আলোচিত ‘পাখি’ চরিত্রটি দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশ্নের জবাবে মধুমিতা উল্লেখ করেন, অতীত সাফল্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি চান নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে। ‘গুলশানের চামেলি’ চলচ্চিত্রে তাঁর চরিত্রটি যদি দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতে তাঁকে কেবল ‘পাখি’ নয় বরং ‘চামেলি’ হিসেবেও একটি স্বকীয় पहचान দেন, তবে তা শিল্পী হিসেবে তাঁর বড় সার্থকতা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নতুন কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শক তাঁকে এক নতুন রূপ ও স্বতন্ত্র পরিচয়ে দীর্ঘদিন মনে রাখবেন।
আব্দুল্লাহ জহির বাবুর রচনায় এবং ‘অ্যাক্সেল ফিল্ম প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে নির্মিত হতে যাওয়া এই বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে দেশের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পীকে দেখা যাবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পারফর্ম করবেন প্রবীণ ও জনপ্রিয় চিত্র তারকা রোজিনা, আমিন খান, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, আশীষ খন্দকার এবং মুকিত জাকারিয়া। একাধিক তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীর সমন্বয়ে চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মূলধারার বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্রের ধারায় একটি ইতিবাচক সংযোজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্রটির প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও প্রি-প্রোডাকশনের কাজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সার্বিক সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের আগামী নভেম্বর মাস থেকে দেশের বিভিন্ন আকর্ষণীয় লোকেশনে ‘গুলশানের চামেলি’র আনুষ্ঠানিক দৃশ্যধারন বা শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্মাণ শেষে আগামী বছর দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।


