জাতীয় ডেস্ক
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের (প্রথম পর্যায়) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক অপব্যবহার ও দলীয়করণের ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্য। কোনো ব্যক্তি বা সেবাগ্রহীতা যেন থানায় বা পুলিশের কোনো দপ্তরে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।
ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক যুগে ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বাধুনিক কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কেবল অপরাধ দমনই নয়, বরং আইনি সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করাই হতে হবে পুলিশ বাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ প্রথম পর্যায়ের এই ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে মোট ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন। কঠোর অনুশীলন ও তাত্ত্বিক পাঠগ্রহণ শেষে সারদার ঐতিহ্যবাহী প্যারেড গ্রাউন্ডের সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে এসব তরুণ কর্মকর্তা সরাসরি পেশাগত কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন। এই ঐতিহাসিক ক্ষণে কৃতি কর্মকর্তাদের অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি প্রশিক্ষণে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এছাড়া শিক্ষাজাত ক্যাটাগরিতে ‘বেস্ট একাডেমিক’ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং নিশানা চালনায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে ‘বেস্ট শ্যুটার’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ বি এম মামুন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল অ্যাডিশনাল আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান। এছাড়া অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত কুচকাওয়াজ প্রদর্শন শেষে নবীন কর্মকর্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনসেবার শপথ গ্রহণ করেন।


