চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার থেকে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারীসহ আটক ৪

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রাইভেটকার থেকে ১৬ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারীসহ আটক ৪

অপরাধ ডেস্ক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি প্রাইভেটকারে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার বিকেল চারটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া থানাধীন চুনতী রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এসব মাদকসহ তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কক্সবাজার এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি প্রাইভেটকার যাচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোবিন্দ চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল ওই মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়। তল্লাশিকালে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৪৮৬৩ নম্বরের একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকার থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গাড়িটি থামিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলে বাম পাশের পেছনের সিটের চাকার ওপরের অংশে বডির ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি চেম্বার থেকে পলিথিনে মোড়ানো ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন— পলাশ মাহমুদ (৩৬), মো. সজীব মিয়া (২৮), সাদিয়া আক্তার (২৪) এবং নুসরাত জাহান ইভা (১৯)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এবং প্রাথমিক সন্দেহ এড়াতে তারা নারী যাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মতো ছদ্মবেশে এই মাদক পরিবহন করছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জব্দকৃত ইয়াবার মূল উৎস কোথায় এবং এই চালানটি কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং দ্রুতই তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কক্সবাজার সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে সারা দেশে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক পাচারের একটি পরিচিত রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। তল্লাশি চৌকি এড়াতে চোরাকারবারিরা নিয়মিত তাদের কৌশল পরিবর্তন করে থাকে। কখনো গাড়ির এসির ভেতরের অংশে, কখনো বা চাকার ভেতরের চ্যাসিসে এবং কখনো নারী-শিশুদের ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা চালানো হয়। তবে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারির কারণে প্রায়শই ধরা পড়ছে এসব মাদকের গোপন চালান।

প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, মহাসড়কে নিয়মিত তল্লাশির পাশাপাশি মাদকের মূল অর্থ যোগানদাতা এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা না গেলে মাদক প্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। লোহাগাড়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য ও মাদক পাচার রোধে তাদের এই কঠোর তদারকি ও শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি অব্যাহত থাকবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ