শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে তিন মৃত্যুর ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো কারাগারে

শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে তিন মৃত্যুর ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী গ্রেপ্তার, পাঠানো হলো কারাগারে

আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ ডেস্ক

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কুদ্দুস ব্যাপারীকে (৫৫) ককটেল বিস্ফোরণে তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় ককটেল তৈরির সময় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। উক্ত বিস্ফোরণে নয়ন মোল্লা (২৫), নবী হোসেন (২২) ও সোহান ব্যাপারী (৩২) নামের তিন যুবক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এ ঘটনার পর জাজিরা থানা-পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক উপাদান আইনে ৫৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। গ্রেপ্তারকৃত ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ওই মামলার অন্যতম প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীয়তপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জাজিরা থানা-পুলিশের যৌথ দল কুদ্দুস ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ জানান, আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকলেও প্রযুক্তিগত সাহায্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক লাভলী শীল জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যালোচনা ও নথিপত্র অনুযায়ী, কুদ্দুস ব্যাপারীর বিরুদ্ধে জাজিরা ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা, ককটেল বিস্ফোরণ, লুটপাট এবং মানব পাচারসহ মোট ৬২টি মারাত্মক অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলায় তিনি পূর্বে জামিনে থাকলেও একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিলাসপুর এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সহিংসতার সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

বিলাসপুর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধভাবে ককটেল তৈরি ও তা ব্যবহার করে আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। জাজিরায় ঘটে যাওয়া ওই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। প্রধান আসামির গ্রেপ্তারের ফলে মামলার তদন্তে গতি আসবে এবং এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ