সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৮০

সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৮০

জাতীয়  ডেস্ক

সারাদেশে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া হাম রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে মারাত্মক সংক্রামক এই ভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন ১ হাজার ৮০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৩ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার (৩ আগস্ট) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে সর্বমোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৫০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ১৬ হাজার ৪০৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। ২৪ ঘণ্টার চিত্রে দেখা যায়, নতুন করে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৯৬৭ জন এবং নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১১৩ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্দেহভাজন হামে মোট ৭৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা ৯৬। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি; মারা যাওয়া তিন শিশুই ছিলেন হামের লক্ষণযুক্ত সন্দেহভাজন রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, সাড়ে চার মাসের এই সময়সীমায় সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২৮ জন। চিকিৎসাসেবা গ্রহণ শেষে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার ১৮৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়পত্র পেয়েছেন। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানেও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েক হাজার আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অতিরিক্ত সংক্রামক ভাইরাসবাহিত ব্যাধি যা প্রধানত অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকাহীন শিশুদের দ্রুত আক্রমণ করে। আক্রান্ত শিশুর মধ্যে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় উচ্চ জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ছোট ছোট লালচে দানা। সময়ে সঠিক চিকিৎসা বা পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নিয়মিত ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শিশুদেহে হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্র কালবিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ