অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক লিমিটেড ২০২৬ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনলাইন সম্মেলনে বিনিয়োগকারী, শেয়ার বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের কাছে এ চিত্র তুলে ধরা হয়। আয়োজনটি বৈশ্বিকভাবে সরাসরি ওয়েবে সম্প্রচার করা হয়।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সিটি ব্যাংকের একীভূত বা কনসোলিডেটেড কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫২৬.৬৯ কোটি টাকা। গত ২০২৫ হিসাব বছরের একই মেয়াদে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৩০১.১১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ২২৫.৫৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৭৪.৮৮ শতাংশ।
মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইয়ার্নিংস পার শেয়ারেও (ইপিএস) ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের প্রথম অর্ধে ব্যাংকের কনসোলিডেটেড ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৩.০১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১.৭২ টাকা।
সম্মেলনে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসরুর আরেফিন প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক কৌশলগত অবস্থান, মূলধন সক্ষমতা এবং দূরদর্শী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৌশলগত পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসারের ফলে ব্যাংকের পরিচালন আয় ও সার্বিক পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. মাহবুবুর রহমান প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূলধন পর্যাপ্ততা, খেলাপি ঋণের স্থিতি, সঞ্চিতি (প্রভিশন) এবং তারল্য পরিস্থিতির বিভিন্ন নির্দেশক বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোলসেল ব্যাংকিং প্রধান মেসবাউল আসীফ সিদ্দিকী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স এ কে এম সায়েফ উল্লাহ কাউসার এবং চিফ রিস্ক অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ আলম। অনুষ্ঠানের শেষভাগে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং স্থানীয় মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অর্ধবার্ষিক আর্থিক সূচকে এই প্রবৃদ্ধি সিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার সুফল। ধারাবাহিক এ ক্রমোন্নতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে এবং শেয়ারবাজারে ব্যাংকের ভিত মজবুত করতে ভূমিকা রাখবে।


