আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনের বিতর্কিত নতুন ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে ভারতের মুম্বাইয়ে বেশ কয়েকজন তিব্বতি শরণার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) দক্ষিণ মুম্বাইয়ের নারিম্যান পয়েন্টে চীনা কনস্যুলেটের কাছে এই বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতে বসবাসরত তিব্বতি জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। মহারাষ্ট্র সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানের শরণার্থী শিবির থেকে আসা বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে জমায়েত হন। তারা চীনের প্রণীত নতুন আইনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে কনস্যুলেটের মূল ফটকের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গতিপথে বাধা দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে হেফাজতে নেয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বেজিংয়ের কার্যকর করা নতুন এই আইন তিব্বতের শতাব্দী প্রাচীন স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ভাষাগত পরিচয়ের ওপর তীব্র আঘাত হানবে। একই দাবিতে ভারতের অন্যান্য বড় শহরেও একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চীনের আইনসভায় ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’ আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় এবং তা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। বিস্তৃত এই আইনে দেশের সকল নাগরিকের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন চীনা জাতীয় পরিচয় অনুসরণের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, প্রশাসন ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রমিত মান্দারিন ভাষাকে একক প্রাধান্য দেওয়া এবং সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রের তদারকি বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।
বেইজিং কর্তৃপক্ষের দাবি, বহুজাতিক রাষ্ট্র হিসেবে দেশের সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রীতি ও জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং সমালোচকদের অভিযোগ, এ আইনের মধ্য দিয়ে ভাষাগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মূলধারার সংস্কৃতিতে জোরপূর্বক বিলীন করার নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং তিব্বতিদের স্বাধিকার আন্দোলন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


