অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি খাতের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক এশিয়া পিএলসি তাদের অনুমোদিত মূলধন (অথরাইজড ক্যাপিটাল) ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন বিদ্যমান ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকটির অনুমোদিত সাধারণ শেয়ারের মোট সংখ্যা ১৫০ কোটি থেকে বেড়ে ৩০০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। তবে শেয়ারের সংখ্যা বাড়লেও প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) আগের মতোই ১০ টাকা রাখা হয়েছে।
ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলধন বৃদ্ধির এই সংক্রান্ত প্রস্তাব যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন ও প্রত্যয়ন লাভ করেছে। মূলধন কাঠামোর এই পরিবর্তনের আলোকেই ব্যাংকের মূল গঠনতন্ত্র অর্থাৎ ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন’-এর ধারা-৫ এবং ‘আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন’-এর অনুচ্ছেদ-৬ এ প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। আরজেএসসি এসব সংশোধনী আইনগতভাবে নিবন্ধিত ও প্রত্যয়িত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকগুলোর অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে পরিশোধিত মূলধন (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা। এর ফলে বোনাস শেয়ার (রাইট বা স্টক ডিভিডেন্ড) বা নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধনি ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রাতিষ্ঠানিক পথ প্রসারিত হয়, যা ব্যাংশের ঋণদান ক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এদিকে অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ব্যাংকটির চলতি হিসাববছরের অর্ধবার্ষিক আর্থিক চিত্র প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে মুনাফায় পতন দেখা গেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে।
প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, আলোচ্য ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ১১ পয়সা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ৩৪ পয়সা।
একইভাবে তিন মাসের একক প্রান্তিক হিসাবেও (এপ্রিল-জুন) ব্যাংকটির মুনাফায় মন্দাভাব লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৮৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯১ পয়সা। এই প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে ৫ পয়সা বা প্রায় ৫ শতাংশ। তবে মুনাফা কমলেও ব্যাংকটির নিট সম্পদের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পুনর্মূল্যায়ন শেষে ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৯২ পয়সা।


