আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার অন্তত ৩০ জন সদস্য গত তিন-চার বছরে দেশটিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হয়েছে। সংগঠনটির অন্যতম শীর্ষ ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলের ডেপুটি কমান্ডার রিজওয়ান হানিফ এক ভিডিও বার্তায় এই তথ্য স্বীকার করেছেন। বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি গোষ্ঠীর কোনো শীর্ষ নেতার কাছ থেকে নিজ সংগঠনের সদস্যদের এমন ধারাবাহিকভাবে নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাকে বিরল হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত মে মাসে পাকিস্তানের একটি গোপন স্থানে ধারণ করা হয়, যা চলতি আগস্টে প্রকাশ্যে আসে। লস্কর-ই-তৈয়বার এক সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রিজওয়ান হানিফ জানান, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজাফফরাবাদসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাদের সদস্যরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলার (টার্গেটেড কিলিং) শিকার হয়েছেন।
বক্তব্যে রিজওয়ান হানিফ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করলেও ভারত সরকার কঠোরভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। অপরদিকে, এই বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রকাশিত ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে, ভিডিওর ব্যক্তিটি ভারতে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় থাকা লস্কর সন্ত্রাসী রিজওয়ান হানিফ। এছাড়া ভিডিওটিতে তাকে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়াতেও দেখা গেছে।
জাতিসংঘ কর্তৃক ২০০৫ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত এবং ২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বাই হামলার মূল কারিগর লস্কর-ই-তৈয়বার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা উগ্রবাদের জেরে স্থানীয় অসন্তোষ থেকেও এই হামলাগুলো ঘটে থাকতে পারে। সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ফলে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতির কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


