জাতীয় ডেস্ক
আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত রাজনৈতিক অপরাধ ও গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিচার নিশ্চিতের প্রশ্নে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেই আবার রাজপথে নামবেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং আওয়ামী লীগের শাসনরীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
পোস্টে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরে আসিফ নজরুল বলেন, দলটির বিরুদ্ধে অনেক বিতর্ক থাকলেও মুক্তিযুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিহাস অনস্বীকার্য। তবে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে চরম জনরোষের মুখে পড়ে দলটিকে দু-দুবার ক্ষমতাচ্যুত ও উৎখাত হতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এই পটভূমি থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ঐতিহাসিক এসব পতনের কারণ চিহ্নিত করা আওয়ামী লীগেরই দায়িত্ব। তবে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার চর্চা না থাকায় দলটি কখনোই এই আত্মবিশ্লেষণ করবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরকে সম্পূর্ণ দেশ, শেখ পরিবারকে রাষ্ট্রের একক মালিক এবং মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্নমত দমনের বৈধ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করার মনস্তত্ত্বই আওয়ামী লীগকে সীমাহীন স্বৈরাচারী শাসন চালিয়ে যাওয়ার সাহস যুগিয়েছে। দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করলেও ক্ষমতার এমন সর্বগ্রাসী ও অনাচারমূলক মনোভাব আর কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা এবং দলীয় কর্মীদের একাংশের উৎফুল্লতা প্রসঙ্গে সাবেক আইন উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের অবাস্বব আশ্বাসে কারো রাজনৈতিক লাভ হবে না। জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হাজারো হত্যা এবং হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করার বিচার না হলে নতুন বাংলাদেশে তাদের পুনরুত্থান সম্ভব নয়। এই বিচারের দাবিতে আবারও গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে জুলাই আন্দোলনকে জাতীয় পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদাভেদ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেতনা বা ‘জুলাই আদর্শ’ রক্ষায় দেশবাসীকে অটল থাকতে হবে। কোনো ভয়ভীতি বা হুমকি দিয়ে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের চেতনাকে দমন করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি গণহত্যাকারীদের কোনো ক্ষমা না দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


