ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক

কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জনের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের অনলাইন ও বিভিন্ন মাধ্যমে চালানো প্রচারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, “তারা বলে ডিসেম্বর মাসে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করে আছি। দেশে আসুক, ইনশাআল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।”

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটিতে দেশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের স্বজন এবং আহত জুলাইযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো হয়।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের শাসনকালের নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে রাজনৈতিক নিপীড়ন, হত্যা, গুম, অবৈধ অর্থ পাচার এবং গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিচালনা সংক্রান্ত অপরাধের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও উল্লিখিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা বা লজ্জাবোধ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি নতুন করে যেকোনো সংঘাত বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। নিজের বয়সের বিষয়টি উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৭১ সালে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আজ ৮২ বছর বয়সে এসেও দেশের সার্বিক সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রয়োজনে তিনি আবারও রাজপথে নামতে পিছপা হবেন না।

অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, নিহতদের পরিবারবর্গের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই বর্তমানে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রের বিদ্যমান আর্থিক ও প্রশাসনিক সামর্থ্য অনুযায়ী শহীদ পরিবার এবং আহত আন্দোলনকারীদের সর্বোচ্চ সাহায্য ও সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান জনযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান—উভয় সংগ্রামের মূল চেতনা ও উদ্দেশ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি সুস্থ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থায় নিরপেক্ষ নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দেশে যতক্ষণ পর্যন্ত গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাধারণ মানুষের অবাধ মত প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে। বিদ্যমান রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার প্রশ্নে দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান চলাকালে সেখানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি ওই প্রামাণ্যচিত্রে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় উপস্থিত জনতার একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে ও ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এতে কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

রাষ্ট্রীয় এ অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিক ও আমন্ত্রিত অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধান অতিথি। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভুলের সত্যতা স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার পরও এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা মোটেই কাম্য নয়। বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে এ জাতীয় বিশৃঙ্খলা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা বহন করে। তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সহনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ