আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আরও ২৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দি। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে সামরিক অভিযানের সময় আটক হওয়া এসব ফিলিস্তিনিকে মুক্তির পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) সহায়তায় গাজায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আইসিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত পাওয়া ২৪ ফিলিস্তিনিকে কেরেম আবু সালেম সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে গাজায় প্রবেশ করানো হয়। সেখান থেকে তাদের চিকিৎসার জন্য সরাসরি খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে সবার সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মুক্ত পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একাধিক প্রবীণ নাগরিক রয়েছেন। তারা যুদ্ধ শুরুর পূর্বে ও চলাকালে গাজার বিভিন্ন শহর এবং শরণার্থী শিবির থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন।
বর্তমান হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এই ২৪ জনের মুক্তির মধ্য দিয়ে চুক্তির অধীন গাজায় ফিরে আসা ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৬ জনে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সীমান্ত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জুড়ে ব্যাপক মাত্রায় ধরপাকড় অভিযান পরিচালনা করে আসছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। যুদ্ধ চলাকালে অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে নির্বিচারে আটক করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে কেবল পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম এলাকা থেকেই ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে পরিচালিত স্থল অভিযানের সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষকে তুলে নিয়ে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। আটককৃতদের দীর্ঘ সময় ধরে গোপন আটককেন্দ্রে রেখে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। বর্তমানে চলমান চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই সামরিক অভিযানের সময় সামরিক হেফাজতে যাওয়া ওই সব ভুক্তভোগী ফিলিস্তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, বন্দি মুক্তির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে মানবিক সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে।


