অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
যশোর, ৫ আগস্ট — বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা চাপ ও নির্যাতন উপেক্ষা করে আন্দোলন বা কারাবরণ করার ত্যাগ কাউকে কোনো ধরনের অন্যায় বা ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বাধীনতা দেয় না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিগত ক্ষমতাসীন দলের অনুসৃত জুলুম-নির্যাতন ও অন্যায় সুবিধার পথ পরিহার করে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে আয়োজিত এ সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যদি কেউ ক্ষমতার অপব্যবহারের চেষ্টা করেন, তবে তার জন্য রাজনীতিতে কোনো স্থান থাকবে না।
সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে যশোর দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের ঝুঁকিতে ছিল এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে বা ভবিষ্যতে অপরাধীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক প্রশ্রয় থাকবে না। অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম তাঁর বক্তব্যে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ২০০৮ সালে শুরু হওয়া ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য অর্জিত হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এই নতুন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে অবদান রাখা সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের ভাষা বা কৌশল অনুসরণ করলে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির মূল চেতনার পরিপন্থী হবে। জনগণ আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের রায়ের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।
গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা এবং নতুন বাংলাদেশের সুযোগকে ব্যর্থ করতে নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এসব চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সব স্তরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়ে যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে সমাপ্ত হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম ও জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এদিকে, দিনটি স্মরণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও নেওয়া হয় নানা আনুষ্ঠানিকতা। সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বকুলতলার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বীর যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। সার্বিকভাবে দিনব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যশোরে দিবসটি পালিত হয়।


