বগুড়া ও সিলেটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫, আহত ৩৪

বগুড়া ও সিলেটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫, আহত ৩৪

জাতীয় ডেস্ক
বগুড়া এবং সিলেটের পৃথক দুটি স্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৪ জন। শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট ও বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে পৃথক সময়ে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। আহতদের স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ সদস্যেরা দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করেছেন।
শুক্রবার সকাল সাভে ছয়টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকার বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। একই সময়ে কাজের সন্ধানে রাস্তার পাশে অপেক্ষারত দিনমজুরদের ওপর বাসটি উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু ঘটে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনই পেশায় শ্রমজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। তাঁরা হলেন—গাইবান্ধা জেলার আমিরুল ইসলাম (৫০), নূর আলম (৫০), আবদুস ছামাদ ও বেলাল এবং জয়পুরহাট জেলার তাজমুল ও ফয়জার। নিহত অপর একজনের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী ‘বেঙ্গল পরিবহন’ এবং ঢাকামুখী ‘ইউনিক পরিবহন’-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই বাসের আট যাত্রী প্রাণ হারান। এ দুর্ঘটনায় আহত হন অন্তত ২৫ জন যাত্রী।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ফারুক মিয়া (৫২) জানান, তিনি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে সিলেট দরগাহ জিয়ারতে এসেছিলেন। সিলেটে কাজ শেষে ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু সাইফুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
পৃথক দুটি দুর্ঘটনার পরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন উদ্ধার করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। পাশাপাশি উভয় ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ