অপরাধ ও আইন ডেস্ক
রাজধানীর কচুক্ষেতে অবস্থিত প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শনে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম। শনিবার বেলা ১১টার দিকে এই নির্ধারিত পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ পরিদর্শনের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। তাঁর সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। আইনগত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এ সময় প্রসিকিউশন টিমের উচ্চপর্যায়ের একটি দল তাঁদের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। প্রসিকিউশন দলের মধ্যে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী এবং তাসমিরুল ইসলাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পরিদর্শনের সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আইনি অধিকার সুরক্ষার অংশ হিসেবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদেরও এ সময় উপস্থিত থাকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সময়ে গোপন বন্দিশালা বা নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত স্থানগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেসব অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর সঠিক তদন্ত ও আলামত সংগ্রহে বিচারকদের এই প্রত্যক্ষ পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণের ফলে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর তৎকালীন পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত বিন্যাস এবং বন্দিদের রাখার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কিত বাস্তব চিত্র সরাসরি অনুধাবন করা সহজ হবে।
এর আগে গত ১ আগস্ট বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত র্যাব-১ সদর দপ্তরের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেছিলেন ট্রাইব্যুনালের এই দলটি। ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউটররা সে সময় টিএফআই সেলের ছোট-বড় ২৯টি কক্ষ এবং সাতটি ডেথ সেল বিস্তারিতভাবে ঘুরে দেখেন। উক্ত পরিদর্শনের সময় বন্দিদের দীর্ঘমেয়াদে আটকে রাখা এবং নির্যাতন চালাবার কৌশল ও ভৌগোলিক বিন্যাস সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেন তাঁরা।
ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে ট্রাইব্যুনালের এই নতুন পরিদর্শনের মাধ্যমে চলমান মামলাগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমকে অধিকতর স্বচ্ছ, নিখুঁত ও সার্বজনীন করতে এই ধারাবাহিক সরেজমিন পরিদর্শন বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।


