অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এক দিনের ব্যবধানে ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য হার কার্যকর হওয়ার পর থেকে বাজারে দেশের গ্রাহকরা সংশোধিত দর অনুযায়ী সোনা ক্রয় করছেন।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন এই দর নির্ধারণ করা হয়। নতুন ক্যাটাগরি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় তেজাবি সোনার চরম অস্থিরতার কারণে দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। বাজুস পূর্ববর্তী কার্যদিবসে ভরিতে ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা পর্যন্ত দর বৃদ্ধি করেছিল, যার ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম গিয়ে ঠেকেছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উভয় বাজারেই মূল্য কিছুটা সংশোধন বা কমতির দিকে আসায় ব্যবসায়ী সংগঠনটি দ্রুত দর পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়। বাজুস বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেছে যে, অলংকারের নকশা ও কারুকাজের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে, তবে ভ্যাট ও মূল স্বর্ণের দাম এই নির্ধারিত তালিকার আলোকেই নিয়ন্ত্রিত হবে।
সোনার দামে কিছুটা দরপতন হলেও রূপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বাজুসের নির্ধারিত আগের দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চলতি বছরে অভ্যন্তরীণ সোনার বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা ও বারবার দর পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। বিশ্ববাজারে সুদের হার সংক্রান্ত পূর্বাভাস, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, এবং আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটে কাঁচা সোনার সরবরাহের তারতম্যের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারে। এর ফলে বাজুসকে চলতি বছরেই প্রায় একশো বার সোনার দামে উর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখী সমন্বয় আনতে হয়েছে। স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মতে, বিশ্ববাজারে দামের সামান্য হেরফেরের কারণে স্থানীয় তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা ও জুয়েলারি খাতের ব্যবসা পরিচালনাকে প্রভাবিত করে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ার কারণে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে গহনা কেনার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। অনেক পরিবার বিয়ের কেনাকাটায় সোনা কেনার পরিমাণ কমিয়ে হালকা নকশার গহনার দিকে ঝুঁকছেন বা বিকল্প ডায়মন্ড কিংবা রূপার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এ অবস্থায় এক দিনের ব্যবধানে ভরিতে তিন হাজার টাকার বেশি হ্রাস কিছুটা হলেও ক্রেতা ও অলংকার প্রস্তুতকারক উভয়ের জন্যই সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতে দেশের বাজারে সোনার মূল্য কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।


