মেসির অবসরের সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজের: এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া

মেসির অবসরের সিদ্ধান্ত একান্তই তার নিজের: এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া

খেলাধুলা ডেস্ক
আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ফুটবল ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মহাতারকা এই ফরোয়ার্ডের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়, বরং যতদিন তিনি মাঠে খেলা উপভোগ করছেন, ততদিন তাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলতে দেওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকার চলাকালে ক্লদিও তাপিয়া বলেন, লিওনেল মেসির ভবিষ্যতের বিষয়ে হুট করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর দরকার নেই। তাকে নিজস্ব ছন্দে ও স্বস্তিতে থাকতে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাপিয়া স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ বিজয়ের পরও ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির অংশগ্রহণ নিশ্চিত ছিল না। সে সময় মেসি প্রতিটি ম্যাচ ধরে আলাদাভাবে এগোনোর কৌশল গ্রহণ করেছিলেন এবং পর্যায়ক্রমে বিশ্বমঞ্চে নিজের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছিলেন। এএফএ সভাপতির মতে, নিজের অবসর গ্রহণের উপযুক্ত সময় কখন, তা মেসি নিজেই নির্ধারণ করতে সক্ষম।
গত ২৪ জুন ৩৯ বছর বয়সে পা দিয়েছেন এই ফুটবল আইকন। ২০২৬ আন্তর্জাতিক আসরের গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেন। তবে জাতীয় দল কিংবা তার বর্তমান ফুটবল ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে আর কতদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবল চালিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি এই তারকা।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন মেসি। সমগ্র টুর্নামেন্টে তিনি দলের হয়ে মোট আটটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে চারটি গোল করান। ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে না পেরে রানার্সআপ হলেও, ব্যক্তিগত অর্জনে মেসি ছিলেন অনন্য।
এই টুর্নামেন্ট চলাকালে মেসি বিশ্ব ফুটবলে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন। তিনি জার্মান তারকা মিরোস্লাভ ক্লোসের করা ঐতিহাসিক ১৬ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করেন। অবশ্য টুর্নামেন্ট শেষে ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে মোট ২২ গোল করে নতুন রেকর্ড গড়ে তাকে পেছনে ফেলেন।
এএফএ সভাপতি স্পষ্ট জানান, কেবল পরিসংখ্যান বা রেকর্ড দিয়ে মেসির অবদান পরিমাপ করা সম্ভব নয়। মাঠের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বের দিক থেকে মেসিই ছিলেন দলের মূল চালিকাশক্তি ও মানদণ্ড। প্রতিটি ম্যাচে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন, যা ফুটবলবিশ্বের জন্য ছিল অত্যন্ত গর্বের ও উপভোগের বিষয়।
ভবিষ্যতের দৃষ্টিকোণ থেকে তাত্ত্বিকভাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে মেসির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যায় না। তবে ওই আসর চলাকালে তার বয়স হবে ৪৩ বছর। ঐতিহ্যবাহী ওই শতবর্ষী বিশ্বকাপটি যৌথভাবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার বিশেষ উদযাপনের অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতেও একটি করে ম্যাচ আয়োজিত হবে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলরক্ষক পজিশনের বাইরে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে ক্যামেরুনের রজার মিল্লার। এছাড়া ৪১ বছর বয়সে পর্তুগালের হয়ে মাঠে নেমেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এসব দৃষ্টান্ত বিবেচনা করে মেসির অবসর নিয়ে আগাম কোনো অনুমানে যেতে নারাজ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, লিওনেল মেসি যতদিন ইচ্ছা ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন এবং তার ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত শেষ সিদ্ধান্তটি তিনি নিজেই নেবেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ