জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম চূড়ান্ত করেছেন বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানো জ্যেষ্ঠ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য পছন্দ করেছে সরকারি দল।
জাতীয় সংসদে বর্তমানে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সংসদীয় কাঠামোর নিয়ম অনুযায়ী সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। ফলে রাজনৈতিক ও আইনি হিসেব-নিকেশ অনুযায়ী, কোনো অপ্রত্যাশিত রদবদল না ঘটলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
আসন্ন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে তাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সরকারি দলের প্রতিনিধিরা দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পক্ষে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এসব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। এর আগে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের সর্বময় ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যানের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব অভিজ্ঞ ও সর্বজনগ্রাহ্য নেতা হিসেবে মির্জা ফখরুলকেই বঙ্গভবনের জন্য মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি নির্বাচনে একাধিক বৈধ প্রতিদ্বন্দ্বী থাকেন, তবে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থান এবং সংসদীয় সমীকরণ পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে কিংবা তিনি একক বৈধ প্রার্থী হলে সংসদের ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে ইসি তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারবে।
বর্তমান সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য রয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এবং ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুসারে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর থেকে সংবিধানের ধারা মেনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পরিচালনা করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ এই রাজনীতিক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে বঙ্গভবনে গেলে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তরেও একটি বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মির্জা ফখরুল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দলের মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নিলে বিএনপির ইতিহাসে দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা এই শীর্ষ সাংগঠনিক পদটি প্রথমবারের মতো খালি হবে, যা দলীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পথ তৈরি করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্তটি বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও রাজনীতিতে গভীর তাৎপর্য বহন করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জাতীয় সংসদ ও সাধারণ রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বঙ্গভবনের নিরপেক্ষতা, সংবিধান রক্ষা এবং সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


