বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস ও বিপিএম-৬ উভয় রিজার্ভেই ইতিবাচক প্রবাহ

বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস ও বিপিএম-৬ উভয় রিজার্ভেই ইতিবাচক প্রবাহ

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ীও একই সময়ে রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববারের হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৮৬৬ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভের এই বৃদ্ধি কেবল স্বল্পমেয়াদি নয়, বরং নিয়মিত অর্থনৈতিক লেনদেনের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে। পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এর আগে গত ৪ আগস্ট গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৫৯২ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২৭৩ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার।

একই ধারাবাহিকতায় বিপিএম-৬ পদ্ধতির রিজার্ভেও সমান্তরাল বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ৪ আগস্ট বিপিএম-৬ মানদণ্ডে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৭৭৬ দশমিক ২৭ মিলিয়ন ডলার, যা ৯ আগস্ট বেড়ে ৩২ হাজার ৪৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে নিট সূচকেও রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ২৭৩ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দায় পরিশোধের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নিট ও গ্রস—উভয় ধরনের রিজার্ভের উর্ধ্বগতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং স্থানীয় মুদ্রার মূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ নির্দেশিকা মেনে মূল বা নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করে থাকে। এ পদ্ধতিতে গ্রস বা মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায়, আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে প্রাপ্ত ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রায় দেওয়া বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তহবিল বাদ দেওয়া হয়। ফলে এই পদ্ধতিতে পাওয়া রিজার্ভের চিত্রটি কোনো দেশের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক আর্থিক সক্ষমতা নির্দেশ করে।

চলতি মাসের শুরু থেকে আমদানিতে কড়াকড়ি, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের সুবাতাস এবং রফতানি আয়ের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকায় রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার বর্তমান গতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যালেন্স ধরে রাখা সম্ভব হলে আগামী দিনগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও জোরদার ও সুসংহত হবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ