অর্থ ও শিক্ষা ডেস্ক
দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ ও কর্মমুখী জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। শিক্ষার্থীদের প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে যুগোপযোগী কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মীর নোয়াবুল হক মেমোরিয়াল হাই স্কুলে নবনির্মিত ‘মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন একাডেমিক ভবন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের আলোকপাত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটানো এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের পরিক্রমায় শিক্ষা খাতে তৈরি হওয়া নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষা যুক্ত হলে তরুণ সমাজ নিজেদের কর্মজীবনের জন্য সঠিকভাবে প্রস্তুত হতে পারবে, যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে। তবেই দেশ একঝাঁক সুশিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক পাবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ব্যারিস্টার ইসরাত নাজনীন নাছির, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর ইসলাম।
মীর নোয়াবুল হক মেমোরিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নবনির্মিত একাডেমিক ভবনটিকে এলাকার শিক্ষা বিস্তারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের এ ধারা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


