খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ও অপ্রতিরোধ্য আক্রমণভাগ হিসেবে পরিচিত বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ত্রয়ীকে আবার একই ক্লাবের জার্সিতে দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্প্যানিশ ফুটবলের জাঁকজমকপূর্ণ অধ্যায় পেরিয়ে এবার মার্কিন মুলুকের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের পুনরায় একত্রিত হওয়ার গুঞ্জন জোরদার হয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে।
বর্তমানে আমেরিকার ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে সতীর্থ হিসেবে নিয়মিত মাঠে নামছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং উরুগুয়ের তারকা ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ। তাদের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারও যদি শেষ পর্যন্ত এই ক্লাবে যোগ দেন, তবে প্রায় এক দশক পর ইউরোপিয়ান ফুটবলের সেই স্বর্ণালী স্মৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসি, সুয়ারেজ ও নেইমারের রসায়ন ছিল ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান চর্চার বিষয়। আক্রমণভাগে এই তিন তারকার অসাধারণ সমঝোতা ও নৈপুণ্যে স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনা ২০১৫ সালে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা এবং কোপা দেল রের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ট্রেবলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জয় করে। ওই তিন মৌসুমে এই ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে বার্সেলোনার হয়ে ৩৬৪টি গোল করার পাশাপাশি অসংখ্য গোল করানোর অবদান রেখে ফুটবল ইতিহাসে নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। ২০১৭ সালে রেকর্ড দলবদল ফি-তে নেইমার ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইতে (পিএসজি) পাড়ি জমালে ভাঙন ধরে বিখ্যাত এই ত্রয়ীতে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে সুয়ারেজ এবং ২০২১ সালে মেসিও ক্যাম্প ন্যু ত্যাগ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ক্লাবের কৌশলগত নীতি ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে নেইমারকে দলে ভেড়ানোর জোর প্রচেষ্টা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এর আগেও একাধিক শীর্ষ তারকাকে চুক্তিবদ্ধ করে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ব্রাজিলিয়ান তারকাকে আনার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের একাধিক অভিজ্ঞ সূত্র ও সাবেক ফুটবলারদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নেইমারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাকে মিয়ামিতে আনার একটি কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। আগামী ফুটবল মৌসুমে ইন্টার মিয়ামির বয়সভিত্তিক ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়া দলে বিশ্বমানের এই তিন ফরোয়ার্ডকে আবার একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
তবে নেইমার নিজেই তার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেননি। বর্তমানে তার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের চুক্তিটি পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান পেশাদার দায়বদ্ধতা ও পারফরম্যান্সের প্রতি দৃষ্টি দেওয়াই এখন তার মূল অগ্রাধিকার। চলমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই তিনি ক্যারিয়ারের পরবর্তী গন্তব্য, নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়া কিংবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই তিন বিশ্বখ্যাত তারকা আমেরিকার লিগে ফের একত্রিত হন, তবে তা কেবল ইন্টার মিয়ামির জন্যই নয়, বরং সার্বিকভাবে উত্তর আমেরিকার ফুটবলের বাণিজ্যিক পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। এটি সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি এবং বিশ্বজুড়ে নতুন ফুটবল দর্শক তৈরির ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব গতি এনে দিতে পারে। তবে খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক শারীরিক ফিটনেস, ইনজুরি ব্যবস্থাপনা এবং দলের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এই সম্ভাব্য চুক্তির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, ইউরোপ কাঁপানো ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর মার্কিন মুলুকে পুনর্মিলনের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে থাকলেও এটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক ফুটবলে একটি নতুন এবং আবেগঘন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।


