অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে একটি পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে যুক্ত চক্রটিকে শনাক্ত করার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
ডিবি কর্মকর্তা বলেন, উত্তরা এলাকার বিপুল অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও কৌশলগত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছেন। রাজধানী ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত প্রায় প্রতিটি চাঞ্চল্যকর ও অপরাধমূলক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ডিবি পুলিশ সফলতা দেখিয়েছে। এই ঘটনাটির ক্ষেত্রেও অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে পুলিশ সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ‘ডিএল পেট্রোল পাম্প’ নামের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানের জমানো টাকা একটি যানবাহনে করে নিকটস্থ ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করে। অপরাধীরা গাড়িটিতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে থামতে বাধ্য করে এবং ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। এজাহারের তথ্যমতে, ছিনতাই হওয়া ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানটির সাপ্তাহিক বিক্রির অংশ ছিল।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, পাম্পটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিনের উপার্জিত অর্থ পরদিন সকালে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুই দিনের অর্জিত অর্থ পরবর্তী কর্মদিবস রোববার সকালে একসংগে ব্যাংকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে সেদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ পরিবাহিত হচ্ছিল, যা অপরাধীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায় বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটির মালিকানার সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিবারের যোগাযোগ রয়েছে। সার্বিক ঘটনাটিতে পেশাদার কোনো অপরাধী চক্র বা অভ্যন্তরীণ কারো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—সেসব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ডিবি পুলিশ দ্রুততম সময়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


