অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় চলাচলকারী তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) সুশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের লাইসেন্সিং ও নিবন্ধনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় বা সমন্বিত কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ এবং বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নগর ব্যবস্থাপনা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার আলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞরা।
মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এই নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। সমন্বিত এই নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের নগর ও গ্রামভিত্তিক যানজট হ্রাস পাবে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় সরকার কাঠামোর অধীনে নিয়মমাফিক লাইসেন্স প্রদান ও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হলে একদিকে যেমন যানবাহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রশাসনিক ও আইনগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ গঠন করার লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা দ্রুত সংশোধন করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স প্রদানের আইনি পথ সুগম করতে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর কয়েকটি সংশ্লিষ্ট ধারা ও তফসিলে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করা হয় এবং ১৭ ডিসেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
সভায় ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত দিক উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান।
আলোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পুলিশের নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
সারাদেশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ই-রিকশা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো চালুর পদক্ষেপকে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সঠিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অদক্ষ চালক ও যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত যানবাহন সড়ক থেকে চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া সহজ হবে, যা পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


