সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান রফিকুল ইসলামের প্রয়াণ

সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান রফিকুল ইসলামের প্রয়াণ

জাতীয় ডেস্ক

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। সিএমএইচে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

পারিবারিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর নামাজে জানাজা বিমানবাহিনীর শাহী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাঁকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় বিমানবাহিনীর নির্দিষ্ট কবরস্থানে দাফন করা হবে। তাঁর প্রয়াণে চাঁদপুরের নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং সামরিক বাহিনীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাইশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সারগোদা কলেজে তাঁর প্রাথমিক সামরিক শিক্ষার অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তিনি কমিশন লাভ করেন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়ে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবন শুরু করেন।

সামরিক জীবনে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি (এনডিইউ) থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ‘পিএসসি’ সনদ লাভ করেন। তিনি বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও ঘাঁটির দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পরিচালনা করেন। মেধা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন হন। ২০০১ সালের ৪ জুন থেকে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে দীর্ঘ পেশাদার সামরিক জীবন থেকে তিনি অবসরে যান।

সামরিক কর্মজীবন শেষ করার পর মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম দেশের মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। চাঁদপুর-২ আসন থেকে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি এলাকার স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং চাঁদপুরের নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রাখেন।

দেশ রক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একজন সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক অধিনায়ক হিসেবে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা সামরিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি এবং সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ