জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে এবং যাত্রীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মেট্রোরেলের চলাচল সময়সীমা আরও বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পরিকল্পনানুযায়ী, বর্তমানে চলমান সময়সূচির সঙ্গে আরও ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় বাড়িয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাস থেকেই এই নতুন সময়সূচি কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমটিসিএলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কেবল শেষ ট্রেনের সময় বৃদ্ধিই নয়, বরং পিক আওয়ারের বাইরে ট্রেন চলাচলের মধ্যবর্তী বিরতি বা হেডওয়ে কমানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে শেষ ট্রেনের ক্ষেত্রে যে ২০ মিনিটের বিরতি রয়েছে, তা কমিয়ে ৭ থেকে ৮ মিনিটে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর ফলে অফিস বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেট্রোরেলের সময়সূচি পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে দক্ষ জনবল বা ট্রেন অপারেটরের প্রাপ্যতা। রাতে অতিরিক্ত সময় ট্রেন পরিচালনার জন্য বাড়তি জনবলের প্রয়োজন। ডিএমটিসিএল ইতিমধ্যে নতুন অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। নির্বাচিত অপারেটরদের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে, যা আগামী ২৬ আগস্ট শেষ হবে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন করে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা শুরু হবে।
এছাড়া, রাতে ট্রেন চলাচলের সময় বর্ধিত করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময়সূচি সমন্বয় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেট্রোরেল একটি অত্যন্ত প্রযুক্তি-নির্ভর ও সংবেদনশীল অবকাঠামো, যার প্রতিদিনের নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। ডিএমটিসিএলের প্রকৌশলীরা রাতকালীন রক্ষণাবেক্ষণের কাজের রুটিন কীভাবে পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন যাতে নিয়মিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের সেবা প্রদান নিরবচ্ছিন্ন থাকে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুন থেকে মেট্রোরেল চলাচলের সময় ২০ মিনিট বাড়ানো হয়েছিল। সেই পরিবর্তনের পর থেকেই যাত্রী চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ওই পরিবর্তনের পর দৈনিক যাত্রীসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীচাপের এই ক্রমবর্ধমান ধারা সামলাতে এবং যাত্রীদের যাতায়াত আরও আরামদায়ক করার লক্ষ্যেই নতুন এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য ও যানজটের কারণে মেট্রোরেল গণপরিবহনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সময়ের সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বাহন। কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাতে ঢাকা শহর থেকে শহরতলির দিকে যাতায়াত করা যাত্রীদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত হবে। তবে সময় বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান বজায় রাখা এবং কারিগরি ত্রুটিহীনতা নিশ্চিত করাই হবে ডিএমটিসিএলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। আগামী মাসে সময়সূচি কার্যকর হওয়ার পর যাত্রী চলাচলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


