আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় এবং উপকূলীয় এলাকার শত শত আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ উচ্চ ভূমির দিকে আশ্রয় নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। প্রধান ভূমিকম্পটির পর ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশেকসহ মোট কয়েকটি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট তীব্র ঝাঁকুনিতে ফ্লোরেস দ্বীপ ও এর আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আবাসিক ভবন, হাসপাতাল এবং সরকারি স্থাপনায় ফাটল দেখা দেয় ও আংশিক ধসের ঘটনা ঘটে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্থানীয় হাসপাতালগুলো থেকে রোগীদের এবং চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের দ্রুত বাইরে খোলা আকাশের নিচে সরিয়ে নেওয়া হয়। মাউমেরে শহরের বন্দর টার্মিনালের একটি অপেক্ষাগার ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার অনেক বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে পাহাড়ি বা উঁচু এলাকার দিকে ছুটতে শুরু করেন।
ভূমিকম্পের পরপরই ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে। সমুদ্রের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু ঢেউয়ে আছড়ে পড়ার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে দূরে থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমুদ্রের পানির স্তরে বড় ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন না পাওয়ায় সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ভূমিকম্পের ফলে তাদের মূল ভূখণ্ড বা দ্বীপগুলোতে কোনো সুনামির হুমকি নেই।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ের ওপর অবস্থানের কারণে দেশটিতে প্রায়ই বড় ধরনের ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। ১৯৯২ সালেও এই ফ্লোরেস অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হেনেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


