জাতীয় ডেস্ক
ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) বিশেষ কার্যক্রম জোরদার করেছে। নগরীর সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়মিত কর্মসূচি পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-০২ এলাকায় ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সপ্তাহ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আধুনিক ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ডিএনসিসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রশাসক আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব জনবল ও সম্পদের পাশাপাশি এই উদ্যোগে নাগরিক সমাজকে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ডিএনসিসির আওতাধীন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতির প্রত্যাশা করছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কেবল সিটি কর্পোরেশনের একার প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নগরীর প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তিনি প্রতিটি নাগরিককে তাদের নিজ নিজ বাসস্থানের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান, যা সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সিটি কর্পোরেশনের সেবা প্রদান কার্যক্রমকে আধুনিকায়নের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রশাসক ‘ফিক্সড ইট ডিএনসিসি’ নামক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারের মাধ্যমে নগরীর বর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং সুসংহত হয়েছে। বাসিন্দারা এই সেবার মাধ্যমে দ্রুত তাদের সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারছেন, যা নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনা সহজতর হয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বিপরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামোগত উন্নতির পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং দায়িত্ববোধই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ এবং নিয়মিত এই অভিযান নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন ডিএনসিসি সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণের প্রক্রিয়াকেও আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো ধারাবাহিক বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


