নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 জাতীয় ডেস্ক

রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নবনির্মিত নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবার পরিধি দ্বিগুণ হয়ে মোট শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত হলো।

আজ শনিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ১৫ তলা এই আধুনিক ভবনটির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান। সকাল ১০টার দিকে নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পদস্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিউরোলজি খাতের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে মাত্র ৩০০ শয্যা এবং একটি ১০ তলা ভবন নিয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপ ও স্নায়ুরোগী বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে শয্যাসংখ্যা আরও ২০০ বাড়িয়ে ৫০০টিতে উন্নীত করা হয়। তবে দেশের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় এই সেবাও পর্যাপ্ত ছিল না। বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবে এবার ১৫ তলার নতুন ভবন নির্মাণ করে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত করা হলো। এর ফলে এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে যুগপৎ এক হাজার শয্যার মাধ্যমে স্নায়ুরোগে আক্রান্ত জটিল রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার, স্পাইনাল কর্ডের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এই বর্ধিত শয্যাসংখ্যা এক বিশাল স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে শুধু রাজধানী নয়, বরং সারা দেশ থেকে আগত দরিদ্র ও সাধারণ রোগীরা আরও সহজে এবং উন্নতমানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করার সুযোগ পাবেন। চিকিৎসকদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একক কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি অন্যতম বৃহৎ এবং সর্বাধুনিক নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে রূপান্তর লাভ করেছে।

সরকারের এই পদক্ষেপে দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে গবেষণার ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগেও দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। এই ১৫ তলা নতুন ভবন চালুর মধ্য দিয়ে দেশের চিকিৎসা খাতের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলো। আগামী দিনগুলোতে এই হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত করতে এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি সংযোজন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ