খেলাধুলা ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের গৌরব অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে এই স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশ।
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক দলকে পরাজিত করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচটি সমাপ্ত হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে সফরে ছিলেন। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই তিনি ডারউইনে অবস্থানরত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কলে যুক্ত হন এবং ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য তাঁদের উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
ভিডিও কলে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর পক্ষ থেকে জাতীয় দলের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও শক্তিশালী ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের নিজেদের চেনা কন্ডিশনে এমন জয় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গৌরবের বিষয়। দলের খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক আত্মবিশ্বাস, উন্নত ক্রিকেটীয় দক্ষতা, দৃঢ় মনোবল এবং কার্যকর দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই ঐতিহাসিক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দলের কোচিং স্টাফ, ক্রিকেট পরিচালনা পর্ষদ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সিরিজের পরবর্তী টেস্টেও দল একই ধরণের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে এবং সিরিজ জয়ের বাস্তব সম্ভাবনাকে সফল পরিণতিতে রূপ দেবে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে এটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট জয়। এর আগে ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে বিদেশের মাটিতে এবং বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডারউইনের এই বিজয় আন্তর্জাতিক টেস্ট অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও মর্যাদাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। স্বাগতিক দলকে মাত্র ৯ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত করার মাধ্যমে দলের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগের সম্মিলিত উন্নতির প্রমাণ স্পষ্ট হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিদেশের মাটিতে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


